কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ

রংপুরে সেচ মৌসুমে সাশ্রয় হয় প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল প্রাপ্তিতে কৃষকরা ভোগান্তির শিকার হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ধান উৎপাদনে বলে জানিয়েছেন কৃষিকাজে সংশ্লিষ্টরা।

এমন বাস্তবতায় রংপুরে আশার আলো দেখাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন। সোলার প্যানেল বা সূর্যের আলো ব্যবহার করে এ অঞ্চলে প্রতিদিন ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এতে প্রতি সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব বলে মনে করে খাতসংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নেট মিটারিং চালুর মাধ্যমে কৃষক ও সরকার উভয়ে লাভবান হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে পাঁচ বছর আগে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেচযন্ত্র পরিচালনার জন্য করা সব প্রকল্প চালু না থাকায় কৃষক লাভবান হতে পারছেন না।

মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের জুম্মা গ্রামে বিএমডিএর ডাগওয়েল পরিচালনা করেন মাহমুদ হাসান শুভ। তিনি জানান, তার এলাকায় ব্যাপক হারে ভুট্টা, কলাসহ সব ধরনের সবজি আবাদ হয়। তিনি ১০ বিঘা জমি পর্যন্ত জমিতে সেচ দিতে পারেন। ডাগওয়েলটি যেহেতু সৌরবিদ্যুতে চলে তাই বর্তমানে জ্বালানি তেলের প্রাপ্তি কঠিন হলেও কৃষকদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।

রফিকুল ও শুভর দাবি, বছরের চার মাস সেচ দেয়ার পর বলতে গেলে বাকি আট মাস এগুলো অব্যবহৃত পড়ে থাকছে। তাই অনায়াসে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রিডে দেয়ার মাধ্যমে নেট মিটারিং চালু করলে তারা সবাই লাভবান হতো।

বিএডিসি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) প্রকৌশলী হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, ‘২০২২ সালের পর সোলারের আর কোনো প্রকল্প বর্তমানে চালু নেই। চার মাস সেচ দেয়ার পরও বছরে বাকি আট মাস এ সোলারগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে দেয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই নেট মিটারিং চালু করা যেতে পারে।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত সেচ মৌসুমে রংপুর বিভাগে বিদ্যমান ৫৯৬টি সৌরবিদ্যুচ্চালিত সেচযন্ত্র সচল ছিল। একেকটি সেচযন্ত্রে গড়ে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে ৫ হাজার ৯৬০ কিলোওয়াট অর্থাৎ ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রতিদিন উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে দেয়া সম্ভব, যা দিয়ে প্রতিদিন ৮০-৮৫ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব। একই সঙ্গে সেচ মৌসুমে চার মাসে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হয়।’

বিএমডিএ রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘২০২২ সালের পর সোলারচালিত কোনো প্রকল্প নতুন করে চালু হয়নি। তবে আগেরগুলো এখনো চালু আছে। নেট মিটারিং সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাঠে তাদের দুটি নেট মিটারিং চালু আছে।’ এছাড়া তাদের অফিস ভবনে স্থাপনকৃত সোলার সিস্টেমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেট মিটিং করা হচ্ছে।

সোলার পরিচালিত সেচযন্ত্রগুলো নেট মিটারিংয়ে আনা সম্ভব কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিতরণ অঞ্চল নেসকো রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে সোলার সেচযন্ত্রগুলো পল্লী বিদ্যুতের এলাকায় অবস্থিত। তাই এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’

আরও